গণবন্ধু : বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ-র ঐতিহাসিক সাফল্যে গেরুয়া শিবিরে উৎসবের আবহ। মোট ২৪৩ আসনের মধ্যে ২০০-র বেশি আসনে এগিয়ে থেকে ফের সরকার গঠনের পথে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট। যা ইতিমধ্যেই উত্তর ভারতীয় রাজ্যটিতে রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে।
এই জয়ের রেশ এসে পৌঁছেছে পশ্চিমবঙ্গেও। বাংলার বিজেপি নেতৃত্ব ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই ‘বাংলায় গেরুয়া সুনামি’র স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, বিহারের মতো পরিবর্তনের বার্তা বাংলাতেও ছড়িয়ে পড়বে।
তবে বিহারের ফলাফল নিয়ে একেবারেই ভিন্ন সুর রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “বাংলার পরিস্থিতি আলাদা। বিহারের ভোটের কোনও প্রভাব বাংলায় পড়বে না।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলায় উন্নয়ন, সম্প্রীতি, অধিকার আর আত্মসম্মান—এগুলোই মানুষের কাছে বড় বিষয়। বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে যতই চক্রান্ত করুক, বাংলার মানুষ জবাব দেবে।” বিজেপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তোলেন কুণাল। একইসঙ্গে জানান, এইসবের বিরুদ্ধে তৃণমূল রাস্তায় নেমে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
বিহারে জয়ের উচ্ছ্বাসকে কটাক্ষ করে কুণাল ঘোষের মন্তব্য, “বিহার দেখিয়ে বাংলাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। এতে কোনও লাভ হবে না। বাংলার মানুষের আত্মসম্মানকে আঘাত করে ভোট পাওয়া যায় না। বাংলার প্রতি ঋতুতেই মানুষের ভরসা—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন। বাংলা যে উন্নয়ন মডেল তৈরি করেছে, তা বহু রাজ্য অনুসরণ করছে। বাংলার মানুষ বাংলার স্বার্থেই তৃণমূলকে সমর্থন করেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।”
সব মিলিয়ে, বিহারের মেগা জয়ের পর যেখানে বিজেপি ২০২৬-এর জন্য উৎসাহে উজ্জীবিত, সেখানে তৃণমূলের বার্তা স্পষ্ট—বাংলার রাজনীতি বাংলার বাস্তবতাতেই নির্ধারিত হবে, আর সেই জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বই মানুষের প্রথম পছন্দ।

