পূর্ব বর্ধমান : দুই বামুনের বামনাইয়ের টানাপোড়েনে হাসির হুল্লোড় বিয়েবাড়িতে। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। কোনটা রিচ্যুয়াল কোনটা একচুয়াল এই নিয়ে দুই পুরোহিতের ঠেলাঠেলি। একেবারে এক ব্যাপারে তারা একমত নন।
বিয়ের আসরে দুই পুরোহিতের মধ্যে মতবিরোধ। বিয়ের পদ্ধতি ও মন্ত্রচ্চারণ নিয়ে মতান্তর। আর এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। কাণ্ড দেখে হেসে খুন নেটিজেনরা। দেখা যায় ছাদনাতলায় বর বসে রয়েছেন। রয়েছেন আত্মীয়স্বজন থেকে নিমন্ত্রিতরা। তাদের সামনেই দুই পুরোহিত জড়িয়ে পড়েছেন বচসায়। একজন পুরোহিত আর একজনকে শেখাচ্ছেন বিয়ের মন্ত্র এবং পদ্ধতি নিয়ে। আর তাদের এই তর্ক বিতর্ক দেখে পাশ থেকে একজন মন্তব্য করছেন,” ঠাকুরমশাই, রাত পেড়িয়ে তো কোকিল ডাকবে। ঝগড়া থামিয়ে তাড়াতাড়ি করুন”
জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট থানার নিগন গ্রামে একটি পরিবারের বিয়ের অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটেছে। দুই পুরোহিতের তর্কবিতর্কের দৃশ্যটি কেউ ক্যামেরাবন্দি করেন । পরে সেটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিয়ে মানেই দুই পরিবারে আনন্দের রোল। কিন্তু মঙ্গলকোট থানার নিগন গ্রামে এক বিয়ের আসর যেন আনন্দের বদলে নাটকের মঞ্চে পরিণত হলো। সেখানে গোল বাঁধলো প্রতিপদে। বর-কনের মঙ্গল কামনার আসরে জমে উঠল দুই পুরোহিতের ‘মহাযুদ্ধ’।
ঘটনাটি ঘটেছে ছাদনাতলায়। বর পিঁড়িতে বসে নিশ্চুপ। আত্মীয়স্বজন থেকে নিমন্ত্রিতরা গোল হয়ে চারপাশে দাঁড়িয়ে। ঠিক তখনই দুই পুরোহিত মন্ত্র উচ্চারণ এবং বিয়ের রীতি-পদ্ধতি নিয়ে তর্কে লিপ্ত হন। একজনের মতে একরকম পদ্ধতি, তো আরেকজন বলছেন সম্পূর্ণ উল্টো। এক পর্যায়ে এক পুরোহিত অপরকে মন্ত্র শেখানোর উদ্যোগ নেন! অতিথিদের মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যেই বিরক্ত, আবার কেউ হাসি চেপে রেখেছেন।
এই তর্কের মাঝেই একজন রসিক অতিথি বলে বসেন, “ঠাকুরমশাই, রাত পেরিয়ে তো কোকিল ডাকবে। ঝগড়া থামিয়ে তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করুন!”
বিয়ের অনুষ্ঠানের এমন হাস্যকর মুহূর্ত কেউ ক্যামেরাবন্দি করে ফেলেন। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড হতেই মুহূর্তে ভাইরাল। নেটিজেনরা ভিডিও দেখে কেউ হাসিতে গড়াগড়ি খাচ্ছেন, কেউ আবার লিখছেন, “বিয়েতে বর-কনে মুখ্য থাকে, কিন্তু এখানে পুরোহিতরাই তারকা হয়ে গেলেন!”
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই কাণ্ড ঘিরে চলছে মজার মিম তৈরির প্রতিযোগিতা। এখন প্রশ্ন একটাই—বিয়ে করতে পুরোহিত ডাকবেন, নাকি মিম নির্মাতাদের? এটাই বোধহয় একুশ শতকের টানাপোড়েন! মন্ত্রের সাধন নাকি দুই বামুনের ছন্দপতন!

